ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন, হতাশ ইয়ামাল ও এমবাপ্পে

লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠল হ্যারি কেইনের মাথায়। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া ইংলিশ স্ট্রাইকার জিতে নিলেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা স্বীকৃতি ব্যালন ডি’অর। তাঁর এই সাফল্যে স্বপ্নভঙ্গ হলো শিরোপার অন্যতম দাবিদার ইয়ামাল ও এমবাপ্পের।
দীর্ঘ ২৫ বছর পর পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতলেন ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলার। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, ধারাবাহিক গোল এবং মাঠে অসাধারণ প্রভাবের সুবাদে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে গেলেন কেইন। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৭৩। এর মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে ৫১ ম্যাচে করেছেন ৬১ গোল। এক মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে এর চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি ক্লাবটির অন্য কোনো খেলোয়াড়।

ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। তাঁর পারফরম্যান্সে ভর করে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়, আর বায়ার্ন মিউনিখ পৌঁছায় চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে। সব মিলিয়ে গোলমেশিন হিসেবে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন কেইন।
ব্যালন ডি’অর হাতে নেওয়ার মুহূর্তে আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি। মঞ্চে উঠে বিস্ময় আর আনন্দ মিশিয়ে বলে ওঠেন, ‘বাহ, বাহ, বাহ।’ এরপর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কেইন জানান, এই স্বীকৃতি তাঁকে প্রায় বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। লন্ডনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণ তাঁর কাছে মুহূর্তটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
কেইন বলেন, ‘আমি প্রায় বাকরুদ্ধ। লন্ডনে এই আয়োজন হওয়ায় মুহূর্তটি আমার কাছে আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে। আজকের রাতটি আমার জন্য যেন শুভ বার্তা নিয়ে এসেছে। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’
ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কেইন বলেন, এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াই ছিল অত্যন্ত কঠিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের পাশাপাশি পুরস্কারজয়ী ও মনোনীত প্রত্যেক খেলোয়াড়কেও অভিনন্দন জানান তিনি।
কেইনের এই অর্জন যেন আরেকবার মনে করিয়ে দিল, সাফল্যের পেছনে প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন ধৈর্য, অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রম। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা পেরিয়ে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে তাঁর এই উত্থান ইংলিশ ফুটবলের জন্যও বিশেষ এক মুহূর্ত হয়ে থাকল।



