‘নারীর শরীর নিয়ে সমাজের প্রত্যাশার শেষ নেই’: ক্যাটরিনার পাশে রাধিকা মদন

মা হওয়ার পর শারীরিক পরিবর্তনের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। তাঁর চেহারা নিয়ে কটাক্ষের ঘটনায় এবার ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী রাধিকা মদন। তাঁর মতে, নারীর শরীর, ওজন ও সৌন্দর্য নিয়ে সমাজের বিচার করার প্রবণতা কখনোই শেষ হয় না। সাধারণ নারী থেকে শুরু করে জনপ্রিয় তারকা—কেউই এই মানসিকতার বাইরে নন।
অভিনয়জীবনে নিজের শারীরিক গঠন নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাধিকা। ‘পটাখা’ সিনেমার চরিত্রের প্রয়োজনে প্রায় ১৫ কেজি ওজন বাড়িয়েছিলেন তিনি। পরে ‘শিদ্দত’ ও ‘আংরেজি মিডিয়াম’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় বাড়তি ওজন কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। তখন তাঁকে শুনতে হয়েছিল, অতিরিক্ত ওজন নিয়ে কীভাবে তিনি সিনেমার প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করবেন।
একদিকে একের পর এক কাজের চাপ, অন্যদিকে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা। সব মিলিয়ে একপর্যায়ে অতিরিক্ত রোগা হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। শারীরিক সুস্থতার অবনতি হওয়ায় কিছুদিনের জন্য কাজ থেকেও বিরতি নিতে হয় তাঁকে।
রাধিকার উপলব্ধি, ওজন বাড়ালে যেমন সমালোচনা শুনতে হয়, তেমনি কমিয়ে ফেললেও কটাক্ষের শিকার হতে হয়। অর্থাৎ, অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজের শরীরে যত পরিবর্তনই আনা হোক না কেন, সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। তাই এখন নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক গড়ন অর্জনের চেয়ে সুস্থ থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।
নারীর সৌন্দর্য নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণা সম্পর্কেও নিজের মতামত তুলে ধরেছেন রাধিকা। তাঁর মতে, ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের সৌন্দর্যকে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়। ফ্যাশন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ কিংবা সমাজে গ্রহণযোগ্য সৌন্দর্যের ধারণার সঙ্গে নিজেদের তুলনা করতে গিয়ে অনেক কিশোরী আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। ভ্রুর আকৃতি, মুখের স্বাভাবিক লোম কিংবা শরীরের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়েও তাদের মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি হয়।
নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাধিকা জানান, ছোটবেলায় তাঁরও ঘন ভ্রু ও মুখে লোম ছিল। তবে পরিবারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে নিজের চেহারাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে শিখিয়েছে। অন্যের প্রশংসা বা স্বীকৃতির ওপর নির্ভর না করে নিজেকে ভালোবাসার গুরুত্বও তিনি সেখান থেকেই উপলব্ধি করেছেন।
রাধিকার মতে, নিজেকে গ্রহণ করার পথ সহজ নয়। তবে নিজের শরীর, স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ও স্বতন্ত্র পরিচয়ের প্রতি সম্মান দেখানোর মধ্য দিয়েই এই যাত্রা শুরু হয়। অন্যের প্রত্যাশা পূরণের জন্য নয়, বরং নিজের সুস্থতা ও আত্মবিশ্বাসের জন্যই প্রত্যেক নারীর নিজের শরীরকে ভালোবাসতে শেখা জরুরি।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



