সন্তানকে রক্ষায় বাবা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন: মাহবুব কবির মিলন

সন্তানকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে একজন বাবা তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। এমন পরিস্থিতিতে বিচারের অপেক্ষা না করে একজন বাবা আবেগের বশে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতেন, প্রয়োজনে আরও কঠোর হতেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি। পোস্টে সন্তানকে রক্ষার তাগিদে অভিভাবকের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশে শিশুদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত পরিসর এবং বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।
নিজের সিঙ্গাপুর ভ্রমণের একটি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে মাহবুব কবির মিলন জানান, একবার নির্জন সড়কের পাশে একটি যাত্রীছাউনিতে পাঁচ-ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে একা বসে থাকতে দেখেন তিনি। শিশুটি হারিয়ে গেছে কিংবা বিপদে পড়েছে—এমন আশঙ্কা থেকে তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। কিন্তু সিঙ্গাপুরের নাগরিক এক আত্মীয় তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন। ওই আত্মীয়ের ব্যাখ্যা ছিল, অপরিচিত কেউ শিশুর কাছে গিয়ে বসলে সেখানে উল্টো ওই ব্যক্তিকেই সন্দেহের মুখে পড়তে হতে পারে। শিশু কোনো বিপদে পড়লে পুলিশকে জানানোর বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত নিজের ভাগ্নিকে ঘিরে আরেকটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন মাহবুব কবির। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়া ভাগ্নি পাঁচ-ছয় বছর বয়সে বাংলাদেশে বেড়াতে এলে তিনি স্নেহের বশে শিশুটির মাথায় চুমু দিয়েছিলেন। পরে শিশুটি তার মাকে জানতে চায়, খালু তাকে স্পর্শ করেছেন কেন। ঘটনাটি শিশুটির মায়ের সামনেই ঘটেছিল বলে জানান তিনি। মাহবুব কবিরের মতে, এ ধরনের অভিজ্ঞতা শিশুদের ব্যক্তিগত পরিসর ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার গুরুত্ব বোঝায়।
পোস্টে উন্নত দেশগুলোর শিক্ষা, আইন এবং সামাজিক পরিবেশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের অপরাধ, দুর্নীতি ও নির্যাতনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তার মতে, এসব সমস্যার শিকড় গভীরে এবং কার্যকর পরিবর্তন না এলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। মাহবুব কবির মিলনের বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধের পর সহজে জামিন পাওয়ার প্রত্যাশা অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির মনোভাব তৈরি করতে পারে। জামিনের অপব্যবহার এবং অপরাধের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এ ছাড়া ধর্মীয় অনুশাসন পালনের সঙ্গে নৈতিক আচরণের সম্পর্ক নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্যে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে অন্যায়, দুর্নীতি ও অপরাধ থেকে বিরত থাকার গুরুত্ব উঠে আসে। ধর্মীয় চর্চা যেন অনৈতিক কাজের দায় এড়িয়ে যাওয়ার অজুহাত না হয়—এমন সমালোচনাও তার পোস্টে প্রতিফলিত হয়েছে।
মাহবুব কবির মিলনের বক্তব্যে একদিকে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকের উদ্বেগ, অন্যদিকে শিশুদের ব্যক্তিগত সীমানা, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তবে শিশুদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি নিরাপদ ও আইনসম্মত পদক্ষেপ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।



